খেলাধূলা ডেস্ক
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে বড় জয় পেলেও ইনজুরি বা চোটের কারণে বড় ধাক্কা খেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের অন্যতম প্রধান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। ২৯ বছর বয়সী এই বার্সেলোনা তারকার চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, চোট সত্ত্বেও তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না এবং তিনি দলের সঙ্গেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন। একই সাথে পরবর্তী ম্যাচে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের দলে ফেরার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার রাতে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সিবিএফ জানিয়েছে, চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রাফিনিয়ার ডান পায়ের উরুর পেছনের অংশে পেশির চোট বা হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি জাতীয় দলের মেডিকেল স্টাফদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি নিবিড় চিকিৎসা প্রটোকল মেনে চলছেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে যে, এই নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ করে স্বাভাবিক খেলায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে রাফিনিয়া ঠিক কবে নাগাদ পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেয়ে মাঠে নামতে পারবেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা তারিখ সিবিএফের পক্ষ থেকে এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
ব্রাজিল দলের হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের মিশনে দলটির প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য একের পর এক খেলোয়াড়ের চোট বর্তমানে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ব্রাজিল দল একাধিক তারকা খেলোয়াড়কে হারিয়ে এক ধরণের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত মার্চ মাসে হাঁটুর গুরুতর চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যান রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড রদ্রিগো। এরপর এপ্রিল মাসে চেলসির হয়ে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন সম্ভাবনাময় তরুণ তারকা এস্তেভাও, যা তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া রক্ষণভাগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় এদের মিলিতাও এবং বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ডিফেন্ডার ওয়েসলি হ্যামস্ট্রিং চোটের শিকার হয়ে দল থেকে বাদ পড়েন।
প্রধান তারকাদের এমন চোটের মিছিলে ব্রাজিলের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে নেইমার জুনিয়রের প্রত্যাবর্তনের খবর। কাফ মাসল বা পায়ের পেশির চোটের কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি ম্যাচ ডাগআউটে বসে কাটাতে হয়েছে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডকে। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এক সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে জানান যে, নেইমার পরবর্তী ম্যাচেই মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছিল সেলেসাওরা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে চার পয়েন্টসহ বর্তমানে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে ব্রাজিল। আগামী বৃহস্পতিবার ভোরে ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে গ্রুপ পর্বের শেষ ও নির্ণায়ক ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আনচেলত্তির শীর্ষশিষ্যরা। নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে যেতে এই ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।