বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারি বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল ও সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি এবং চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার চরাঞ্চল এবং নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সাথে ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির কারণে সিলেট বিভাগের নদ-নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে এই অঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে অতি ভারি বৃষ্টি এবং ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রবল বর্ষণের ফলে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংস্থাটির সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নদীগুলোর দুই তীর উপচে পানি প্রবেশ করায় চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাদি জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগের দিন একই সময়ে পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে ছিল, যা ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি ও আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগেও তীব্র বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারতের মেঘালয়সহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানিয়েছেন, ভারতের মেঘালয় পার্বত্য অঞ্চলে আগামী তিন দিন প্রচুর বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে এলে সিলেটের নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলকে প্লাবিত করবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত সক্রিয় থাকায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এই বৈরী আবহাওয়া আগামী অন্তত তিন দিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, টাঙ্গাইল, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও কক্সবাজারসহ ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।