খেলাধূলা ডেস্ক
আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ চলাকালীন মাঠের মধ্যেই আবারও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন ডেনমার্কের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালে হঠাৎ বুকে অস্বস্তি অনুভব করে তিনি মাঠে লুটিয়ে পড়েন। তবে তাঁর শরীরে পূর্বে প্রতিস্থাপিত ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভার্টার ডেফিব্রিলেটর (আইসিডি) যন্ত্রটি তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হওয়ায় এবং মেডিকেল টিমের দ্রুত জরুরি চিকিৎসায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাটি ২০২১ সালের ইউরো কাপে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন এরিকসেনের আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। সেবার মাঠেই তাঁর হৃৎস্পন্দন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা বিশ্ব ফুটবলকে স্তব্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ চিকিৎসার পর তাঁর শরীরে আইসিডি যন্ত্রটি বসানো হয়, যা হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক দিয়ে তা সচল রাখে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মাঠের মধ্যে তাঁর এই স্বাস্থ্যঝুঁকি পেশাদার ফুটবলে তাঁর টিকে থাকার সম্ভাবনাকে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
উদ্বেগজনক এই ঘটনার পর ডেনিশ মিডফিল্ডারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর সাবেক টটেনহ্যাম সতীর্থ ও ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রস্তুতি পর্বের মাঝে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কেইন তাঁর সাবেক সতীর্থের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাঠের ভেতর ডেফিব্রিলেটর যন্ত্রটি সঠিক সময়ে কাজ করায় একটি বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এরিকসেনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কেইন জানান, ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার আপাতত মাঠ থেকে দূরে থেকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়াক্স, টটেনহ্যাম হটস্পার, ইন্টার মিলান এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো শীর্ষ সারির ক্লাবে খেলা এই দক্ষ মিডফিল্ডারের ক্যারিয়ার এখন চূড়ান্ত সমাপ্তির দিকে যেতে পারে। অতীতে এই ধরনের গুরুতর হৃদরোগের ঘটনার পর অনেক খেলোয়াড়ই সুরক্ষার স্বার্থে বুট জুতো তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতালিয়ান সিরি-আ লিগের নিয়ম অনুযায়ী শরীরে আইসিডি যন্ত্র নিয়ে খেলা নিষিদ্ধ থাকায় এরিকসেনকে একসময় ইন্টার মিলান ছাড়তে হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার অনুমতি পেলেও, পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও উচ্চ তীব্রতার ফুটবল খেলার ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিল।
মেডিকেল বোর্ড এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এরিকসেনের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। তবে ফুটবল ও জীবন—এই দুইয়ের মাঝে সমতা বজায় রাখতে গিয়ে এই ডেনিশ তারকাকে এখন অত্যন্ত কঠিন ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করছে ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহল। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ম্যাচ এবং শারীরিক ধকল নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।