জাতীয় ডেস্ক
নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য দায়িত্ব পালনকালে নিহত হলে তাঁর পরিবারকে ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে আহত বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হওয়া ব্যক্তিদের জন্যও ক্যাটাগরি অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার বিধান রেখে একটি নতুন নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে।
ইসির উপ-সচিব রাশেদুল ইসলামের সই করা সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ও ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো দুর্ঘটনা বা সহিংসতার শিকার হলে এই আর্থিক সুবিধা পাবেন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী হামলায় বা দুর্ঘটনায় নিহত হলে তাঁর পরিবার ১০ লাখ টাকা অনুদান পাবেন। এছাড়া, গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৪ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত বা সাময়িকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ২ লাখ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাধারণ বা আংশিক আহত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
নীতিমালায় নির্বাচনী ডিউটি চলাকালীন স্বাভাবিক অসুস্থতা বা মৃত্যুর বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে আকস্মিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে বা স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবারকে ৬ লাখ টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, এই সময়ে গুরুতর অসুস্থতা বা স্থায়ী অক্ষমতার শিকার হলে ৩ লাখ টাকা, সাময়িক অসুস্থতার জন্য ৫০ হাজার টাকা, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে ৩ লাখ টাকা এবং হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আর্থিক অনুদান প্রাপ্তির জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। আহত ব্যক্তি নিজে অথবা নিহত ও স্থায়ীভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারী বা পরিবারকে নির্ধারিত ফরমে যথাযথ প্রমাণাদিসহ আবেদন দাখিল করতে হবে। প্রাপ্ত আবেদনসমূহ মূল্যায়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দিষ্ট কমিটি থাকবে। এই কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে কমিশনের কাছে সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন উত্থাপন করবে। পরবর্তীতে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অনুদানের অর্থ মঞ্জুর ও বিতরণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, ইতিপূর্বে এ ধরনের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা কার্যকর ছিল না। ফলে অতীতে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনী সহিংসতা বা দুর্ঘটনায় হতাহতদের অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হতো। বিশেষ করে অনুদানের অর্থ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কীভাবে এবং কী অনুপাতে বণ্টন করা হবে, তা নিয়ে প্রায়শই আইনি ও পদ্ধতিগত সংকট তৈরি হতো।
নতুন এই বিস্তৃত নীতিমালা প্রণয়নের ফলে অতীতের সেই দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি সংকট দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে, মাঠপর্যায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি আরও জোরদার হবে। এর ফলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে নিয়োজিত জনবল আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে কমিশন।