বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকার অদূরে সাভারের আমিনবাজার এবং আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পর ভূমি সেবার কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রশাসনিক স্থবিরতা ও সেবাদানে দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে কার্যালয় দুটিতে কাজের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত উপস্থিত থাকায় এবং কাজের জবাবদিহিতা তৈরি হওয়ায় সেবাগ্রহীতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আমিনবাজার ও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয় দুটিতে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা, নথিপত্র ব্যবস্থাপনা এবং সেবাদান কার্যক্রমের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি সেবাদান প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম, ঘাটতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দায়িত্বে অবহেলার চিত্র দেখতে পান। সরকারি দপ্তরে এ ধরনের অব্যবস্থাপনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সেবার মান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সাথে জনগণের দোরগোড়ায় হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হলে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতিমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশনার পর দুই রাজস্ব কার্যালয়ের কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। পূর্বে যেখানে একটি সাধারণ নামজারি বা ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য কাজের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো এবং সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হতো, সেখানে এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেবা মিলছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা রজিবুল আলম জানান, পূর্বে এখানে কাজের জন্য এসে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হতো। তবে প্রতিমন্ত্রীর তদারকির পর বর্তমানে এখানকার চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। কর্মকর্তারা এখন নির্দিষ্ট সময়ে ডেস্কে থাকছেন এবং কাজের গতি আগের চেয়ে অনেক দ্রুত হয়েছে। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চিরতরে দূর করতে এই ধরনের নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
অনুরূপ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আমিনবাজারের বাসিন্দা রোজিনা খাতুন। ভূমি সংক্রান্ত একটি জটিল কাজের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, আগে এই কার্যালয়ে এসে সঠিক কোনো তথ্য বা সহযোগিতা পাওয়া দুষ্কর ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজের পরিবেশ উন্নত হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের আচরণ ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবার এই গুণগত মান ধরে রাখতে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ভূমি অফিসগুলোকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড, দুর্নীতিমুক্ত এবং জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। মাঠ পর্যায়ের এই অনিয়ম দূর করতে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের ঝটিকা ও আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম সারা দেশে অব্যাহত রাখা হবে।
এই প্রসঙ্গে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল জানান, জনগণকে হয়রানিমুক্ত, দ্রুত ও কার্যকর উপায়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকারি সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, লবিং বা দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মানুষের দোরগোড়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সহজ ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের অবহেলা দূর করতে এই ধরণের তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও দেশব্যাপী অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, সরকারি ভূমি সেবা খাতের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুধু আকস্মিক পরিদর্শনই যথেষ্ট নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং সার্বক্ষণিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আমিনবাজার ও আশুলিয়ার মতো দেশের অন্যান্য প্রান্তের ভূমি অফিসগুলোতেও একই ধরনের কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি বজায় থাকলে সামগ্রিক ভূমি ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে।