আইন আদালত ডেস্ক
ডিভোর্স না দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা উভয়ই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলা এই বহুল আলোচিত আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। শুনানিতে বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং নথি পর্যালোচনা করে নাসির ও তামিমাকে মামলা থেকে খালাস প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাকিব হাসান বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪৯৭, ৫০০ এবং ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আগের বিয়ে গোপন রেখে অন্যত্র বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ক্রিকেটার নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিলেও তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ রিভিশন আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায় এবং বিচার প্রক্রিয়া যথানিয়মে চলমান থাকে।
আদালতি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে বাদী রাকিব হাসানের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানিতে আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। শুনানিতে তামিমা সুলতানা দাবি করেন যে, তিনি সম্পূর্ণ আইনগত নিয়ম মেনে তার পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়েই নাসির হোসেনকে বিয়ে করেছেন। আদালত উভয় পক্ষের দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং দাখিলকৃত নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়ার আদেশ দেন।