বিশেষ প্রতিবেদক
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ও ডাটা সেন্টার খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা রবিন খুদার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারট্রাঙ্ক’। দেশটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদাকে কাজে লাগাতে এই বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত শুক্রবার (৫ জুন) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এয়ারট্রাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবিন খুদা। বৈঠক পরবর্তী এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি ভারতজুড়ে সর্বমোট ৫ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডাটা সেন্টার স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগ দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তি বাজারে একটি বড় ধরনের মাইলফলক। ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা রবিন খুদা রাজধানী শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বয়েজ স্কুল থেকে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৮ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং সেখানে অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে প্রবেশ করেন। ২০১৫ সালে তিনি ডাটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারট্রাঙ্ক’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে প্রতিষ্ঠানটির বিশাল ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সাময়িকী ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রবিন খুদার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, যা তাকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনীতে পরিণত করেছে।
বিনিয়োগের গুরুত্ব ও কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করে রবিন খুদা জানান, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল বাজার। দেশটির বিপুল জনসংখ্যা, ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত অভিযোজন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের সম্প্রসারণ বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই বিশাল চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এয়ারট্রাঙ্ক তাদের আগামী দিনের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার আওতায় সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে। রাজ্যটির উপ-मुख्यमंत्री দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়েছেন, এয়ারট্রাঙ্ক এককভাবে মহারাষ্ট্রেই ৩ গিগাওয়াট ক্ষমতার ডাটা সেন্টার নির্মাণ করবে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে মুম্বাইয়ের রায়গঞ্জে প্রয়োজনীয় জমি ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাকি ২ গিগাওয়াট ক্ষমতার ডাটা সেন্টার ভারতের অন্যান্য কৌশলগত অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হবে।
উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় জানান, এয়ারট্রাঙ্কের এই মেগা বিনিয়োগ বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআই প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। এই প্রকল্প বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় সাপ্লাই চেইনকে শক্তিশালী করবে এবং ভারতের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন-ভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো পুরোপুরি কার্যকর হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনবে।