সারাদেশ ডেস্ক
কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি রিয়াজ উদ্দিন আরফাতকে (২৪) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। গতকাল ৬ জুন রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী রোডস্থ ‘আলগনি হোটেল’ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত রিয়াজ উদ্দিন আরফাত কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিলংজা ঝিরঝিরি পাড়া এলাকার আইয়ুব বাবুর্চির ছেলে। গ্রেফতারের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ১৬ বছর বয়সী দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে স্কুলে যাতায়াতের পথে ঝিলংজা এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন আরফাত তাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতো। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও সরাসরি ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি লোকলজ্জার ভয়ে এবং আসামির হুমকির কারণে এতদিন গোপন রাখে ভিকটিম।
সম্প্রতি ভিকটিমের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান যে, ভিকটিম প্রায় ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভিকটিমের পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আইনি প্রতিকারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের পরিবার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর থেকেই এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি রিয়াজ উদ্দিন আরফাতকে গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব-১৫ এই ঘটনার পর থেকেই ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল জানতে পারে যে, আসামি কলাতলী এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। পরে সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) আ ম ফারুক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
আইনজীবীদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর অধীন এই ধরনের অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর এবং এর জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে। ভিকটিমের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদনসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।