স্টাফ রিপোর্টার: মো. জাহাঙ্গীর আলম (সেন্টু)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাসানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং পরবর্তীতে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের পেছনে প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়ম ছিল নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্য কাজ করেছে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলিকন রিয়েল এস্টেট (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সারোয়ার খালেদ আবুল হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেন।
অভিযোগ দাখিলের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
পরবর্তীতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে আবুল হাসান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এক লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তিনি আইন, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে এসেছেন এবং কখনো কোনো বেআইনি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
আবেদনে তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী সারোয়ার খালেদ বিভিন্ন সময়ে তার কাছে আইনগত পরামর্শ গ্রহণের জন্য এসেছিলেন।
তিনি আইন ও পেশাগত নীতিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিলেও কোনো ধরনের বেআইনি তদবির বা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অনুরোধে সাড়া দেননি।
তার দাবি, এসব অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
আবুল হাসান আরও দাবি করেন, অভিযোগকারী পক্ষের সঙ্গে তার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি। যে অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, একই ধরনের অভিযোগ পূর্বেও অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও উত্থাপিত হয়েছিল। ফলে বিষয়টিকে তিনি তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবুল হাসান বলেন, “আমি সবসময় আইন ও পেশাগত নীতিমালার আলোকে দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো বেআইনি তদবির বা অনৈতিক অনুরোধে সাড়া না দেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছে। অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগও দেওয়া হয়নি।”
তিনি অভিযোগ করেন, অভিযোগ প্রকাশের পর থেকে তিনি সামাজিক, পারিবারিক ও পেশাগতভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন আবুল হাসান।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।