বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে তার্কিশ কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সির (টিকা) একটি প্রতিনিধি দল। রবিবার (৭ জুন, ২০২৬) প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে টিকা-র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজানের নেতৃত্বে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও যৌথ সদিচ্ছা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তুরস্ক আন্তর্জাতিকভাবে যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, বাংলাদেশও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেই মানদণ্ড নিশ্চিত করতে চায়। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও আধুনিক সমস্যা সমাধানমূলক দক্ষতার সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করা আবশ্যক। ১০ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থী যেন মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশের সময় সমসাময়িক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সরকার বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করছে।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার চলমান বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকার মানসম্মত শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসন, কারিকুলাম উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং নন-ফরমাল শিক্ষা বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি কার্যকর করেছে। এই ধারাবাহিকতায় তুরস্কের সঙ্গেও প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহযোগিতা গড়ে তোলার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
টিকা-র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজান বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের সংস্কার ভাবনা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলমান আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে কাঠামোগত এবং গুণগত ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে তুরস্ক বাংলাদেশের এই রূপান্তরে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে আগ্রহী।
আলোচনায় উভয় পক্ষ প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করার ওপর জোর দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মডেল স্কুল উন্নয়ন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ এবং উভয় দেশের জাতীয় শিক্ষা দর্শন ও পেডাগজিক্যাল (শিক্ষণবিজ্ঞান) পদ্ধতি বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়। দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনা আগামী দিনে বাংলাদেশ ও তুরস্কের কূটনৈতিক ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।