শিক্ষা প্রতিবেদক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ডিগ্রি প্রদানের গণ্ডি থেকে বের করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের সর্ববৃহৎ এই উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ককে জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সূতিকাগারে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ৩০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২ হাজার ২৮৫টি কলেজে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যার মধ্যে কেবল চলতি বছরেই ৪ লাখের বেশি ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। তবে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক গ্র্যাজেুয়েট বের হলেও একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই শিক্ষিত বেকারত্ব দূরীকরণে উচ্চশিক্ষাকে কেবল সনদনির্ভর না করে জীবনঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকারের ভিশন ও নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই গত সাড়ে তিন মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক সংস্কারমূলক কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার সেন্টার ও জব প্লেসমেন্ট কার্যক্রম চালু, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কলাবোরেশন শক্তিশালীকরণ, এপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। এছাড়া পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের প্রধান বাহন হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে। সেশনজট দূরীকরণ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা ও ফলাফল প্রক্রিয়ায় ডিজিটাইজেশনসহ বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ক্লাবভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন—বিতর্ক, বিজ্ঞানমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্যচর্চা এবং নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিয়ে বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মতো বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেও দেশের জ্ঞানচর্চা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অগ্রভাগে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস চলছে। অতীতের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে এই প্রতিষ্ঠানকে একটি আধুনিক ও মর্যাদাশীল রূপ দিতে কাজ চলছে। চলমান শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এই রূপান্তরের অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ।