ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ২-১ গোলের ব্যবধানে আফ্রিকান পরাশক্তি মিসরকে পরাজিত করে। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস এবং তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক। মিসরের পক্ষে একমাত্র গোলটি শোধ করেন মোস্তাফা জিকো। এই জয়ের ফলে টানা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে জয় নিয়ে মূল পর্বে মাঠে নামতে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে খেলতে থাকে ব্রাজিল। রক্ষণভাগ ও মধ্যমাঠের সমন্বয়ে তারা শুরুতেই মিসরের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই প্রথম সাফল্য পায় ব্রাজিল। মিসরের মিডফিল্ডার মোহানাদ লাশিনের একটি রক্ষণাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগান ব্রাজিলের ব্রুনো গিমারায়েস। প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে একটি নিখুঁত নিচু শটে মিসরের জালে বল পাঠান তিনি। ফলে ম্যাচের শুরুতেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় কার্লো আনচেলত্তির শীর্ষরা।
তবে শুরুর এই অগ্রগামিতা ব্রাজিল বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগের বোঝাপড়ার ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরে মিসর। ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডার মারকিনিওসের একটি দুর্বল পাসের নিয়ন্ত্রণ নেন মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁত শটে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে পরাস্ত করেন তিনি। ফলে ম্যাচে ১-১ গোলের সমতা ফিরে আসে। সমতায় ফেরার পর ব্রাজিল পুনরায় আক্রমণে জোর দিলেও মিসরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শুবির দুর্দান্ত কয়েকটি প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল বাড়াতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দলের আক্রমণভাগকে গতিশীল করতে তিনি একসঙ্গে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন। এই পর্যায়ে মাঠে নামানো হয় ১৯ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককে। মাঠে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন এই তরুণ ফুটবলার। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের একটি পরিকল্পিত আক্রমণে ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যান রাফিনিয়া। তার বাড়ানো ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক শটে বল দূরবর্তী কোণ দিয়ে মিসরের জালে জড়ান এন্দ্রিক। ব্রাজিলের পক্ষে এটিই শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোল হিসেবে প্রমাণিত হয়।
এর আগে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছিল ব্রাজিল। ফলে টানা দুই ম্যাচের এই ইতিবাচক ফলাফল বিশ্বকাপের মূল পর্বে দলটিকে মানসিকভাবে বেশ আত্মবিশ্বাসী রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণে গড়া ব্রাজিলের বর্তমান দলটির আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এই ম্যাচগুলোতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে, মিসর পরাজিত হলেও ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই বিশ্বকাপের মূল আসরে ভালো করার ইঙ্গিত দেয়।
আগামী ১৩ জুন গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ যথাক্রমে স্কটল্যান্ড ও হাইতি। অন্যদিকে, আগামী ১৫ জুন ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে মিসর। গ্রুপ পর্বে তাদের বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে নিউজিল্যান্ড ও ইরানের বিরুদ্ধে। মূল আসরের আগে এই প্রস্তুতি ম্যাচটি উভয় দলের জন্যই নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা মূল্যায়নের শেষ সুযোগ ছিল।