আবহাওয়া ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি জেলার ওপর দিয়ে এই মৌসুমী ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো—রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট। এসব এলাকার ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রপাত এবং বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী অববাহিকায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বিধায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত অনুসরণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার সামগ্রিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসের এই সময়ে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চল তথা খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় এই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তার কারণে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের এই পূর্বাভাসের মধ্যেও দেশের মধ্যাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে—রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর এবং চাঁদপুর জেলাগুলোর ওপর দিয়ে চলমান এই মৃদু তাপপ্রবাহ আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে। জলবায়ুর স্থানীয় তারতম্যের কারণে দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত হলেও, তাপপ্রবাহ কবলিত অঞ্চলগুলোতে গরমের তীব্রতা এখনই কমছে না। তবে এই সময়ে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামগ্রিকভাবে প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
নদীপ্রধান বাংলাদেশে মে মাসের এই সময়ে আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখী সাধারণ ঘটনা হলেও তা নৌপথের যাত্রী ও সাধারণ মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবহাওয়াবিদদের মতে, ১ নম্বর সতর্কসংকেতের অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে হবে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিশেষ করে ছোট লঞ্চ ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে আবহাওয়ার আরও অবনতি হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসা সম্ভব হয়।