1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সংসদে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ শব্দ ব্যবহারের প্রস্তাব শামা ওবায়েদের জাতীয় সংসদে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জামায়াত নেতার ব্যবসায় পরিবেশ সহজীকরণে জোর দেওয়া হবে, তবে সব ক্ষেত্রে কর সুবিধা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় হত্যাযজ্ঞ: হাসানুল হক ইনুর পক্ষে পঞ্চম দিনের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর গাড়িতে বাসের ধাক্কা, চালক গ্রেপ্তার পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়তে বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বাংলাদেশের টাকা ছাপিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও ত্যাগের ইতিহাস অনস্বীকার্য: সংসদে ফজলুর রহমান সাতক্ষীরায় কার্বাইড মিশ্রিত ৯ হাজার কেজি আম জব্দ ও ধ্বংস সীমান্তে আরএসও ও এআরএ-র মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি, উখিয়া সীমান্তে বিজিবির সতর্কাবস্থান

নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলায় গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

নোয়াখালী জেলা সদরে স্কুলছাত্রী তাসমিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলায় অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম ওরফে রনিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একইসঙ্গে আদালত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম ওরফে রনি (৩৩) নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর মহল্লার লাতু কাউন্সিলর বাড়ির খলিল মিয়ার ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার ‘জাহান মঞ্জিল’ নামক নিজ বাসভবন থেকে অদিতিতার গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অদিতা নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘটনার পর রাতেই পুলিশি অভিযানে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে তার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ এবং পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা ধস্তাধস্তির প্রমাণ বহন করে।

পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করার পর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচারিক কাজ শুরু করেন। বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ ৪১ জন এবং আসামিপক্ষ ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই সর্বোচ্চ সাজার আদেশ দেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সেলিম শাহী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি একটি বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ছিল। গৃহশিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে হত্যার এই ঘটনায় সমাজে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেছিল এবং আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিপরীতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গত কয়েক বছর ধরে তাদের পরিবার অত্যন্ত দুর্বিষহ সময় পার করছে। আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট এবং এই সাজা দ্রুত কার্যকর করার জন্য তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারাও এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026