সারাদেশ ডেস্ক
সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি ট্রাক তল্লাশি করে রাসায়নিক ও কার্বাইড দিয়ে পাকানো প্রায় ৯ হাজার কেজি অপরিপক্ক আম জব্দ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে এই বিপুল পরিমাণ আম আটক করা হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বুধবার দুপুরে জব্দকৃত এসব আম প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা জেলা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম পরিবহন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় অপরিপক্ক আম বাজারজাত করার চেষ্টা করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের একটি দল কালিগঞ্জ-সাতক্ষীরা সড়কের বিনেরপোতা এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় কালিগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৪৭১৩) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে ট্রাকটি থেকে ৩৫১টি প্লাস্টিকের ক্যারেটে রাখা প্রায় ৯ হাজার কেজি আম উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, আমগুলো গাছ থেকে অপরিপক্ক অবস্থায় পেড়ে তাতে বিষাক্ত ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও বিভিন্ন রাসায়নিক মিশ্রণ করা হয়েছিল। কৃত্রিমভাবে রঙ পরিবর্তন করে আমগুলো সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পাকা আম হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। সাতক্ষীরার আম দেশজুড়ে জনপ্রিয় হওয়ায় এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ পথ পরিবহনের সময় আমগুলো পাকানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রাসায়নিক ব্যবহার করে থাকে।
জব্দকৃত এসব আম বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা পৌরসভার বিনেরপোতা এলাকার আবর্জনার ভাগাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে আমগুলো পিষে ও মাটির নিচে চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই এই তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল দীর্ঘমেয়াদে লিভার, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
এই অভিযানের বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান, মৌসুমি ফল বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা ও নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনোভাবেই ভেজাল বা বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য বাজারে ছাড়তে দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আম বাগান ও পরিবহন রুটে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জেলাজুড়ে অব্যাহত থাকবে।
সাতক্ষীরায় আম সংগ্রহের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত থাকলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে অপরিণত আম বাজারে আনছে। এই ঘটনার পর জেলার আম বিপণন ব্যবস্থা এবং পাইকারি বাজারগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একইসাথে পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের রাসায়নিক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।