বিশেষ প্রতিবেদক
পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোকে তাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) ১১তম পর্যালোচনা সম্মেলনের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে এই আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরকারের এক তথ্যবিবরণীর মাধ্যমে জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই অবস্থানের কথা বিস্তারিত জানানো হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি ও এর নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার আট দশক অতিক্রম করলেও পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যটি এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অব্যাহতভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য যেমন গুরুতর হুমকি তৈরি করছে, তেমনি এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথেও বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘকালীন ও নীতিগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ বরাবরই পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে সোচ্চার। দক্ষিণ এশিয়া তথা পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশবেষ্টিত অঞ্চলে ভৌগোলিক অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ স্বেচ্ছায় অ-পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে থাকার কঠোর সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে। বাংলাদেশের সংবিধানেও বিশ্বশান্তি ও নিরস্ত্রীকরণের প্রতি এই অঙ্গীকারের প্রতিফলন রয়েছে।
বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) অনুচ্ছেদ ৬-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। উক্ত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোর যে আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে পূরণের আহ্বান জানানো হয়। তিনি মনে করেন, নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর সর্বজনীনতা নিশ্চিত করা না গেলে বিশ্বকে এই ভয়াবহ হুমকি থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।
পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্য, কৃষি ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নের জন্য পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে এটি যেন কোনোভাবেই মারণাস্ত্র তৈরির পথে ধাবিত না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগের মাধ্যমে পারমাণবিক হুমকি থেকে মুক্ত একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করা যায়।