1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সংসদে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ শব্দ ব্যবহারের প্রস্তাব শামা ওবায়েদের জাতীয় সংসদে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জামায়াত নেতার ব্যবসায় পরিবেশ সহজীকরণে জোর দেওয়া হবে, তবে সব ক্ষেত্রে কর সুবিধা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় হত্যাযজ্ঞ: হাসানুল হক ইনুর পক্ষে পঞ্চম দিনের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর গাড়িতে বাসের ধাক্কা, চালক গ্রেপ্তার পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়তে বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বাংলাদেশের টাকা ছাপিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও ত্যাগের ইতিহাস অনস্বীকার্য: সংসদে ফজলুর রহমান সাতক্ষীরায় কার্বাইড মিশ্রিত ৯ হাজার কেজি আম জব্দ ও ধ্বংস সীমান্তে আরএসও ও এআরএ-র মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি, উখিয়া সীমান্তে বিজিবির সতর্কাবস্থান

টাকা ছাপিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রবর্তিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অর্থায়নে সরকার কোনোভাবেই নতুন করে টাকা ছাপাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগটি পর্যায়ক্রমে এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার ফলে বাজারে মুদ্রাস্ফীতির কোনো আশঙ্কা নেই।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদ নেতার বক্তব্যে উঠে আসে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনার সরকারি সঙ্কল্প। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

তারেক রহমান সংসদকে জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে কঠোরভাবে। তিনি বলেন, “আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চাই, কিন্তু তা করতে গিয়ে নতুন মুদ্রাবাজারকে অস্থিতিশীল করা হবে না। বাজেটের বরাদ্দ এবং নির্ধারিত আয় থেকেই এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে।”

সংসদে দেশের নগরায়ন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ফলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুচিকিৎসার খোঁজে সারা দেশের মানুষ রাজধানীমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে। এই অতিরিক্ত জনচাপের কারণে ঢাকার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি নিরসনে সরকারের কৌশল ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাজধানীমুখী মানুষের স্রোত কমাতে এবং সারা দেশে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিকেন্দ্রীকরণের পথে হাঁটছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া গেলে মানুষের ঢাকা আসার প্রবণতা কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

একই সঙ্গে ঢাকাকে একটি বসবাসযোগ্য, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজধানীকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ হিসেবে রূপান্তর করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই বনায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শহরের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা এবং বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় মশক নিধন কার্যক্রমকে নিয়মিত কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, নাগরিকদের জন্য একটি নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করাও বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলো সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকার গ্রামকে শহরে রূপান্তরের যে দর্শন গ্রহণ করেছে, তা প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে কেবল জীবনযাত্রার মানই উন্নত হবে না, বরং দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতিতেও টেকসই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারের গৃহীত এই বহুমুখী পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026