আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ‘নির্ধারক ভূমিকা’ পালনের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই দাবি জানান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিবৃতিতে আমির সাইদ ইরাভানি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল যেন অবিলম্বে লেবাননের বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করে, সেটি নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব এখন নিরাপত্তা পরিষদের ওপর বর্তায়। একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌম ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহার নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সুপরিকল্পিতভাবে আঞ্চলিক অস্থিরতা জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে ইসরায়েল।
লেবানন ইস্যুর পাশাপাশি ইরানি প্রতিনিধি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন। ইরাভানির মতে, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া জানানো এখন সময়ের দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এবং মানবিক সংকটের প্রেক্ষিতে ইরানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তেহরান মনে করছে, নিরাপত্তা পরিষদ যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে লেবানন ও ফিলিস্তিনসহ সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে মানবিক বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হবে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং চুক্তির শর্তাবলী রক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরানের এই কূটনৈতিক অবস্থান মূলত বিশ্ব দরবারে ইসরায়েলি নীতির বিরোধিতা করা এবং নিজেদের আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে কোনো বিশেষ প্রস্তাব বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তের বর্তমান অস্থিরতা নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।