নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের পবিত্র হজ পালন করতে এখন পর্যন্ত ৯৫টি ফ্লাইটে মোট ৩৮ হাজার ২০৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তবে হজযাত্রার এই আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সৌদি আরবে আরও একজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে সৌদি আরবে সর্বমোট সাতজন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করলেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত ৩টায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্ক থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সৌদি আরবে পৌঁছানো মোট হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫০৮ জন।
পরিবহন ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৪২টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৩৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ১৮টি ফ্লাইট হজযাত্রীদের বহন করেছে। গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩১ মে পর্যন্ত হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী হজযাত্রীর নাম মো. শামসুল আলম (৬৩)। তার স্থায়ী নিবাস রংপুরের কোতোয়ালি এলাকায়। গত মঙ্গলবার মদিনায় অবস্থানকালে তিনি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখ্য যে, শামসুল আলম সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ছিলেন এবং চলতি মৌসুমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে মৃত্যুবরণকারী ছয়জনই ছিলেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সৌদি আরবে মারা যাওয়া সাতজন হজযাত্রীই পুরুষ। তাদের মধ্যে পাঁচজন পবিত্র মক্কায় এবং দুইজন মদিনা শরীফে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুবরণকারী অন্যান্য হজযাত্রীদের তথ্যে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল জামালপুরের মাদারগঞ্জের মো. আব্দুল হাই (৬১) মদিনায় এবং একই দিন মক্কায় শেরপুরের শ্রীবরদীর মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৮) মারা যান। এছাড়া ২৬ এপ্রিল দিনাজপুরের বিরামপুরের মো. খলিলুর রহমান (৬৪), ২৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের পাগলার মো. সেরাজুল হক (৬৬), ২২ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদরের মো. আবুল কাশেম (৭০) এবং ২১ এপ্রিল জয়পুরহাটের মো. নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫) মৃত্যুবরণ করেন।
সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হজের উদ্দেশ্যে গিয়ে সেখানে মৃত্যুবরণ করলে তার মরদেহ ওই দেশের মাটিতেই দাফন করা হয়। মৃত ব্যক্তির পরিবারকে এই বিষয়ে অবহিত করা হয় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে মক্কা ও মদিনায় সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা ও দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ও মেডিকেল টিম কাজ করছে। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং তীব্র গরম থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।