1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
চৌদ্দগ্রামে মাদক নিয়ে বিরোধে আহত শ্রমিকের মৃত্যু: বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলা বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের রাজনীতি শেখার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ৪০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে বর্তমান সরকার মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের দাবি রুমিন ফারহানার নাগরিক সুবিধা বিকেন্দ্রীকরণ ও ঢাকার আধুনিকায়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ঘোষণা নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক অপরাধ ও দুর্নীতির দায়ভার গ্রহণের প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষায় ৩৭ হাজার পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান ওয়াশিংটন নৈশভোজে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টা: অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও গুজবের বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘সমুদ্রে দস্যুতা’ আখ্যা দিল ইরান সৌদি আরবে ৩৮ হাজার হজযাত্রীর আগমন, মদিনায় আরও একজনের মৃত্যু

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের দাবি রুমিন ফারহানার

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন এবং এর বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। চুক্তিটিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি এটি প্রয়োজনে বাতিলের দাবিও উত্থাপন করেন।

বুধবার সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। সংসদীয় কার্যপ্রণালী অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা এই বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় তিনি চুক্তির সময়কাল এবং এর আইনি বৈধতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, বাংলাদেশের কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়, তার তুলনায় আমদানি তুলনামূলক কম হওয়ায় যে বিশাল বাণিজ্যিক ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা নিরসনের লক্ষ্যেই এই চুক্তিটি করা হয়েছিল।

তবে চুক্তির সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই সংসদ সদস্য বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। সেই সময়ে দেশের সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা (থিংক ট্যাংক) থেকে প্রবল আপত্তি তোলা হয়েছিল। তাদের অভিমত ছিল, একটি অনির্বাচিত বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করা নীতিগতভাবে সঠিক নয়। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জনম্যান্ডেট নিয়ে এই চুক্তিতে উপনীত হওয়ার যৌক্তিকতা থাকলেও তৎকালীন সরকার তা আমলে নেয়নি।

চুক্তির ধারাগুলো সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, এই চুক্তিতে এমন কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, সরকার চাইলে স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে এটি বাতিলের সুযোগ রয়েছে। সেই আইনি সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনস্বার্থে চুক্তিটি সংসদে উত্থাপন করে বিস্তারিত আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।

রুমিন ফারহানার এই বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে বাধা প্রদান করেন। স্পিকার সংসদীয় রীতিনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার মূলত সংসদের চলমান কার্যক্রম বা কার্যপ্রণালী বিধির শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে ব্যবহৃত হয়। যেহেতু এটি একটি নতুন এবং নীতিগত প্রশ্ন, তাই এটি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতাভুক্ত নয়। স্পিকার তাকে যথাযথ সংসদীয় নোটিশ প্রদানের পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিধি মোতাবেক নোটিশ দিলে বিষয়টি পরবর্তীতে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

স্পিকারের নির্দেশনার পরও রুমিন ফারহানা অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেন এবং পুনরায় চুক্তিটি বাতিলের সময়সীমার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তা সংসদে উত্থাপনের দাবি জানান। তবে স্পিকার তার এই দাবি গ্রহণ না করে পরবর্তী কার্যসূচিতে ফিরে যান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্পাদিত এই চুক্তিটি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে আগে থেকেই নানা বিতর্ক বিদ্যমান ছিল। বিশেষ করে চুক্তির স্বচ্ছতা এবং দেশীয় শিল্প খাতের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে এই চুক্তিটি বহাল থাকবে নাকি নতুন করে সংস্কার করা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হলো।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026