আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশির মধ্যে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার (২২ মাইল) দূরে পিনেলাস কাউন্টির একটি জলাশয় থেকে এই দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মরদেহের অংশটি নিখোঁজ নাহিদা সুলতানার কি না, তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষা ও ডিএনএ বিশ্লেষণের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সময় রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হিলসবরো এবং পিনেলাস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ইন্টারস্টেট ২৭৫ এবং ৪ নম্বর স্ট্রিট নর্থ-সংলগ্ন এলাকার একটি জলাশয় থেকে এই দেহাবশেষ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত অংশটি বর্তমানে পিনেলাস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি কোনো নারীর নাকি পুরুষের দেহাবশেষ।
গত ১৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। ২৭ বছর বয়সী লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে এবং নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে গত ১৭ এপ্রিল তাঁদের এক পারিবারিক বন্ধু স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীকালে ২১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ প্রচার করে।
নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর গত শুক্রবার জামিল আহমেদ লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় লিমনের কক্ষসঙ্গী হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ (২৬) নামক এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লিমনের মরদেহ উদ্ধার হলেও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির কোনো হদিস মিলছিল না। তবে শনিবার বৃষ্টির ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের বরাত দিয়ে জানান যে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁকে বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যদিও সেই সময় পর্যন্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিমনের মরদেহ যেভাবে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল, বৃষ্টির মরদেহও একইভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছে তদন্তকারী দল। গ্রেপ্তারকৃত হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে পেশ করা নথিতেও পুলিশ এই সন্দেহের কথা উল্লেখ করেছে। উদ্ধারকৃত নতুন মরদেহের খণ্ডাংশটি সেই প্রক্রিয়ার অংশ কি না, তা এখন গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হিলসবরো কাউন্টির পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার সাথে উদ্ধারকৃত দেহাবশেষের বৈশিষ্ট্যের মিল খোঁজা হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে এবং পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজ এবং দেশে থাকা তাঁদের পরিবার এই উদ্ধার অভিযানের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। লিমনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর বৃষ্টির এই নিখোঁজ ও সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।