নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোলার সদর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি যৌথ অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোররাতে সদর থানাধীন চরগাজী আদর্শগ্রাম সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এই অভিযানে অংশ নেয়।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চরগাজী গ্রামের বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. মনির হোসেন (৫০) এবং একই এলাকার মো. মোখলেসুর রহমান মিয়ার ছেলে মো. শহীদ সিকদার (৪২)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম আজ সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড বেইজ ভোলা ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে আজ ভোর ৪টার দিকে চরগাজী এলাকায় অবস্থান নেয় যৌথ বাহিনী। সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তল্লাশি চালানো হলে মো. মনির হোসেন ও মো. শহীদ সিকদারের কাছ থেকে ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০ হাজার টাকা বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত গাঁজা এবং আটককৃত দুই ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধে কোস্টগার্ডের এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। মাদক পাচারের রুট হিসেবে পরিচিত ভোলা ও এর পার্শ্ববর্তী চরাঞ্চলগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে এবং চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজ ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং আইন-শৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারিদের কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, নিয়মিত এমন অভিযানের ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে এবং এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তা সুসংহত হবে।