সারাদেশ ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা জেলাকে ভিক্ষাবৃত্তিমুক্ত ও স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় চারজন অসহায় ব্যক্তিকে ২ লাখ ৭ হাজার টাকার সহায়ক উপকরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসন ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় এসব সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। তিনি উপকারভোগীদের হাতে ব্যবসার উপকরণ ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভিক্ষাবৃত্তির মতো অমর্যাদাকর পেশা থেকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিতরণকৃত উপকরণের মধ্যে ছিল বিশেষভাবে তৈরি ট্রাই-সাইকেল এবং পিঠা তৈরির সরঞ্জাম। বিশেষায়িত এই ট্রাই-সাইকেলগুলোর মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা যাতায়াতের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় পণ্য বিক্রি করতে পারবেন, যা তাদের সম্মানজনক উপার্জনের পথ সুগম করবে। এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসার মূলধন হিসেবে উপকারভোগীদের নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বিতরণকৃত এই উপকরণগুলো অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ট্রাই-সাইকেলের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে পণ্য বিক্রি করে স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের লক্ষ্য হলো সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভিক্ষাবৃত্তিমুক্ত একটি উন্নত ও স্বনির্ভর জেলা গড়ে তোলা। জেলা প্রশাসন পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতা আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাহ আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মহিবুল্লাহ্ হক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি কেবল সাময়িক ত্রাণ নয়, বরং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ভিক্ষাবৃত্তি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি শেষে উপকারভোগীরা সরকারের এই উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নতুনভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামীতেও এ ধরনের টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে যাতে জেলার কোনো মানুষকে বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে লিপ্ত হতে না হয়।