1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিতে ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম সংস্কারে মিডিয়া কমিশন গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব উত্তরা পূর্ব থানায় হত্যা মামলা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা আফজাল নাছের দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের তাগিদ হুইপ দুলুর মুগদায় ডিবি পুলিশের ব্লক রেইড: মাদক সেবনের দায়ে আটক ৫৮ জনের কারাদণ্ড উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নবীন শিক্ষকদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই: ইউজিসি চেয়ারম্যান ভোলায় যৌথ অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বিশেষ অধিবেশন শুরু ৪ জন অসহায় ব্যক্তিকে পুনর্বাসন উপকরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান ওপেনএআই বনাম ইলন মাস্ক: এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আইনি লড়াই

ওপেনএআই বনাম ইলন মাস্ক: এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আইনি লড়াই

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ভবিষ্যৎ অভিমুখ এবং নৈতিক অবস্থান নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক আইনি লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে সোমবার। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক এবং বর্তমান সময়ের প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন আদালতের কাঠগড়ায় চূড়ান্ত মীমাংসার অপেক্ষায়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি আদালতে জুরি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক মহলে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ইলন মাস্কের প্রধান অভিযোগ হলো ওপেনএআই তার প্রাথমিক অলাভজনক (নন-প্রফিট) লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে। মাস্কের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে মাইক্রোসফটের একটি সহযোগী মুনাফাভোগী সংস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে, যা মানবতার কল্যাণের পরিবর্তে বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ২০১৫ সালে যখন ওপেনএআই প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন স্যাম অল্টম্যান ও মাস্কের মধ্যে সমঝোতা ছিল যে এটি একটি ওপেন সোর্স গবেষণাগার হবে এবং এর প্রযুক্তি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মাস্ক এই প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন, তবে পরবর্তী সময়ে কৌশলগত মতভেদের কারণে তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যান।

আদালতে পেশ করা নথিতে মাস্ক উল্লেখ করেছেন যে, তাকে প্রতারণার মাধ্যমে বিনিয়োগে রাজি করানো হয়েছিল। তার মতে, ওপেনএআই-এর বর্তমান বাণিজ্যিক কাঠামো তাদের মূল সনদের পরিপন্থী। বিশেষ করে মাইক্রোসফটের সঙ্গে তাদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়টি মাস্কের আইনি যুক্তির মূল ভিত্তি। এই বিচারে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেল্লাসহ প্রযুক্ত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই মাস্কের এই অভিযোগকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, মাস্ক নিজেই একসময় ওপেনএআই-এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন এবং তাতে ব্যর্থ হয়েই তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়েছিলেন। ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণার জন্য যে বিপুল পরিমাণ ডেটা সেন্টার ও কম্পিউটিং ক্ষমতার প্রয়োজন, তা কেবল অলাভজনক অনুদান দিয়ে পরিচালনা করা অসম্ভব। একারণেই তারা একটি বাণিজ্যিক সহযোগী কাঠামো গড়ে তুলতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে ওপেনএআই জানিয়েছে, এই মামলা মূলত ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত ঈর্ষা এবং নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ (xAI)-কে সুবিধা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা মাত্র।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার রায় এআই শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। মাস্ক তার মামলায় দাবি জানিয়েছেন যেন ওপেনএআই-কে পুনরায় সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা হয় এবং বর্তমান সিইও স্যাম অল্টম্যান ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যদিও মাস্ক প্রথমে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন, তবে পরবর্তীকালে তিনি জানান যে আদালতের নির্দেশে প্রাপ্ত যেকোনো অর্থ তিনি ওপেনএআই-এর অলাভজনক কল্যাণমূলক কাজেই দান করবেন।

এই বিচারিক লড়াই কেবল দুই পক্ষ বা দুই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো শক্তিশালী প্রযুক্তি কি কেবল গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নাকি এর সুফল সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে? জুরি বোর্ডের পর্যবেক্ষণের পর আদালত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। ওপেনএআই কি সত্যিই তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, নাকি আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তাদের এই রূপান্তর অপরিহার্য ছিল, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026