আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে মাহমুদুল হাসান (২৬) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরের দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আফজাল নাছেরকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য তথ্যাদি উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। আসামিপক্ষ থেকে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে জামিন প্রার্থনা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল এই মামলায় আফজাল নাছেরের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ।
গত ৩০ মার্চ রাজধানী মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসভবন থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় উত্তরা পূর্ব থানাধীন আজমপুর এলাকায় একটি মিছিলে হামলা ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। উক্ত মিছিল চলাকালে মাহমুদুল হাসান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে ঘটনার দিন এলাকায় সক্রিয় উপস্থিতি ও নির্দেশনার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রিমান্ড চলাকালীন সময়ে ঘটনার দিন অভিযুক্তের গতিবিধি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই মামলাটি বর্তমানে অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে। আদালত রিমান্ড শেষে আসামিকে পুনরায় হাজির করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং মাঠ পর্যায়ে নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।