নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংবাদকর্মীদের কল্যাণে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। সাংবাদিক সমাজ ভালো থাকলে দেশ, জাতি ও গণতন্ত্র সুসংহত থাকবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি। সভায় অন্যান্য হুইপসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হুইপ দুলু তার বক্তব্যে গণমাধ্যমের বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, সরকার ইতোপূর্বেই গণমাধ্যমকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে। এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও বাস্তবে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয়। পূর্ণাঙ্গ শিল্পের মর্যাদা না পাওয়ার কারণে অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক। তিনি অবিলম্বে গণমাধ্যমকে শিল্পের পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে এর যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা যেভাবে নিয়মিত বেতন ও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, সাংবাদিকদের জন্য সেভাবেই সম্মানজনক বেতন কাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেন, তাই তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তায় রেখে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রত্যাশা করা কঠিন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক যেন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অর্থকষ্টে কিংবা বিনা চিকিৎসায় মানবেতর জীবন যাপন না করেন, সেদিকে রাষ্ট্রের নজর দেওয়া উচিত। প্রবীণ সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন এবং নবীনদের জন্য আদর্শ কর্মপরিবেশ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি নবীন সাংবাদিকদের তাদের অগ্রজদের অনুসরণ করে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রসঙ্গে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একটি সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় রাজনীতিতে একটি মাইলফলক। গণতন্ত্রের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং জনমত গঠনে সাংবাদিকদের জোরালো ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় উপস্থিত বক্তারাও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। বিশেষ করে সংবাদপত্রের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিক নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করেন।