রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য রাজনীতি বন্ধের দাবিতে দেয়াললিখন এবং ব্যানার পোড়ানোকে কেন্দ্র করে গত রোববার গভীর রাতে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাত সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হলের সামনে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা রাত ২টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে রুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে ‘গুপ্ত রাজনীতির’ বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও দেয়াললিখন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—উভয় ধরনের রাজনীতির বিরোধিতা করে একটি ব্যানার টাঙায়। অভিযোগ ওঠে, বিকেলে উক্ত ব্যানারটি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী নামিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার খবর ‘রুয়েট জাতীয়তাবাদী স্পন্দন’ নামক একটি ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ব্যানার পোড়ানোর প্রতিবাদে রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একদল সাধারণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক হল এলাকা প্রদক্ষিণ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের সামনে পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। এসময় ছাত্রদল সমর্থিত ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী দলীয় স্লোগান দিতে শুরু করলে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরাও রাজনীতি বিরোধী স্লোগান দিয়ে তার প্রতিবাদ জানান। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলে এই পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও উত্তেজনা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।
উল্লেখ্য, রুয়েট প্রশাসনে আগে থেকেই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রত্যক্ষ রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের রাজনীতি চর্চার ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য কোনো কমিটি না থাকলেও বিভিন্ন সংগঠনের আড়ালে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ছাত্রদল এখানে প্রকাশ্য কমিটি দেওয়ার তৎপরতা শুরু করলে ক্যাম্পাসের অরাজনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম সরকার জানান, ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৫ আগস্টের পর থেকে নতুন করে কোনো ছাত্র সংগঠনকে কমিটি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো খবর ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য রাজনীতি বন্ধের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আজ সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। চলমান এই অস্থিরতার কারণে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।