1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা সমর্থকদের সাথে দ্বন্দ্বে নেইমার: মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে আলোচনায় আচরণগত বিতর্ক শান্তি আলোচনায় ইরানি স্পিকারের কঠোর বার্তা: যুদ্ধক্ষেত্রে ‘নতুন কার্ড’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি আঞ্চলিকভাবে নববর্ষ উদযাপনে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে জীবনমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ ঢাকা মহানগর পুলিশের ৫ পরিদর্শকের কর্মস্থল পরিবর্তন বিরাট কোহলির কারণেই ক্রিকেট খেলায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন জকোভিচ কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব: ৫ সপ্তাহে আক্রান্ত ৬৫১, মৃত্যু ৮ ইউরোপীয় ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়: ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানায় ক্রিস গেইল সারাদেশের সিঙ্গেল স্ক্রিনে ২৪ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে চলচ্চিত্র ‘দম’

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির প্রাথমিক সংস্করণ স্বাক্ষর

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে ‘অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি’র (পিসিএ) প্রাথমিক সংস্করণ বা অনুস্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) সদর দপ্তরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম এই ধরনের কৌশলগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করল, যা দুই পক্ষের দীর্ঘকালীন উন্নয়ন অংশীদারত্বকে একটি আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় রূপান্তর করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে ইইএএস-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাওলা পামপোলিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, ইইউ’র হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কালাস এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার একটি ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পিসিএ একটি আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি, যা শুধু বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সুশাসন, মানবাধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অভিন্ন স্বার্থের বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করবে। ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে ইইউ’র বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০১ সালে ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম সহযোগিতা চুক্তি হয়েছিল, যা ছিল মূলত উন্নয়ন ও বাণিজ্য কেন্দ্রিক। পরবর্তী দুই দশকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধির ফলে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর ব্রাসেলসে নতুন এই পিসিএ চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ইইউ আলোচনার গতি কিছুটা মন্থর করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী পর্যায়ে ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ২০২৫ সালের এপ্রিলে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা ও সিলেটে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর এই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, পিসিএ স্বাক্ষর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার পর এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হবে। পূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হলে এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, ডিজিটাল রূপান্তর, এবং নিরাপদ অভিবাসনের মতো ক্ষেত্রগুলোতেও সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে।

ঢাকা ও ব্রাসেলস উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে যে, এই নবতর অংশীদারত্ব কেবল দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষা করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রাথমিক এই স্বাক্ষর প্রক্রিয়াটি দুই পক্ষের দীর্ঘ এক বছরের নিরলস আলোচনার ফসল, যা আগামীতে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026