বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি জীবনমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি উল্লেখ করেছেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা একটি কার্যকর বিকল্প প্ল্যাটফর্ম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর (বিএনএফই) সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী ব্যুরোর চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে কাজের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের জনশক্তিকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার যে রূপকল্প বা ভিশন তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে দক্ষতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এই ভিশনের সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও ঝরে পড়া শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে এই ব্যুরোর ভূমিকা অপরিসীম।
শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দারিদ্র্য বা অন্য কোনো কারণে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনা এবং তাদের কারিগরি জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, কেবল সংখ্যাগত উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করার ওপর তিনি জোর দেন।
মতবিনিময় সভায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বর্তমান কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। ব্যুরোর কর্মকর্তারা তাদের অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ে কাজের সীমাবদ্ধতাগুলো প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরলে তিনি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে তিনি প্রতিটি প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার পূর্বের তুলনায় হ্রাস পেলেও একটি অংশ এখনো শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে দারিদ্র্য ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে যারা প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে পারে না, তাদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। এই জনগোষ্ঠীকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বেকারত্ব হ্রাসে সহায়ক হবে। প্রতিমন্ত্রীর এই নির্দেশনা সেই লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী। সভায় মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা নিজ নিজ দপ্তরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।