বিনোদন ডেস্ক
ঈদুল ফিতরে দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্যের পর এবার দেশের তৃণমূল পর্যায়ের দর্শকদের জন্য বড় পরিসরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দম’। আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশের অর্ধশতাধিক সিঙ্গেল স্ক্রিনে একযোগে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা আই ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির যৌথ পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শুরুতে চলচ্চিত্রটির কারিগরি নিরাপত্তা এবং পাইরেসি প্রতিরোধের লক্ষ্যে এটি শুধুমাত্র অত্যাধুনিক মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে সীমিত পরিসরে মুক্তির পর থেকেই সাধারণ দর্শকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে সিঙ্গেল স্ক্রিনের সংখ্যা কমলেও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এখনো বড় অংকের আয়ের উৎস হিসেবে জেলা পর্যায়ের হলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দর্শকদের সেই আগ্রহ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা বিবেচনায় নিয়েই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবার বড় পরিসরে দেশব্যাপী বিতরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এসভিএফ আলফা আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল চলচ্চিত্রটির সম্ভাবনা নিয়ে জানান, ‘দম’ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে যা দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করবে। বর্তমানে চলচ্চিত্রটি সাধারণ প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও নতুন আঙ্গিকের প্রচারণামূলক পোস্টার বিতরণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাগৃহগুলোর মধ্যে মধুমিতা, শ্যামলী সিনেমা, সেনা অডিটোরিয়াম, রংপুরের শাপলা, ময়মনসিংহের ছায়াবাণী, পাবনার রূপকথা, বরিশালের অভিরুচি, জয়দেবপুরের বর্ষা, সিলেটের নন্দিতা এবং যশোরের মণিহারের মতো বড় হলগুলোতে চলচ্চিত্রটি একযোগে প্রদর্শিত হবে। বড় পর্দার এই সম্প্রসারণ চলচ্চিত্রটির সামগ্রিক আয়ের অংকে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরী, চঞ্চল চৌধুরী, আবুল হায়াৎ, ডলি জহুর ও জাহিদ হাসান। কেন্দ্রীয় চরিত্রে আফরান নিশোর রূপান্তর ও অভিনয় শৈলী ইতোমধ্যে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে। অভিনেতা নিশো চলচ্চিত্রটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলেন, এটি মূলত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের সাহস ও সংগ্রামের একটি আখ্যান। দর্শকদের এই অভূতপূর্ব সমর্থন দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।
বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশের এই চলচ্চিত্রটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করেছে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন শহরে মুক্তি পাওয়ার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে চলচ্চিত্রটি নিয়ে উন্মাদনা দেখা গেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা সাতটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০-এ উন্নীত হয়েছে, যা বাংলা চলচ্চিত্রের বিশ্ববাজার সম্প্রসারণে একটি বড় উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসেও চলচ্চিত্রটি আয়ের রেকর্ড গড়েছে বলে জানা গেছে।
‘আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’ ট্যাগলাইনকে উপজীব্য করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য তৈরিতে কাজ করেছেন একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী নির্মাতা। এর গল্প ও চিত্রনাট্য রচনায় যুক্ত ছিলেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল আলম রবি। আধুনিক মেকিং এবং শক্তিশালী গল্পের সমন্বয়ে তৈরি ‘দম’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন একটি ট্রেন্ড সেট করতে সক্ষম হবে বলে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে বড় বাজেটের মানসম্মত চলচ্চিত্রের এই আগমন দেশের ঝিমিয়ে পড়া সিনেমা হলগুলোতে পুনরায় প্রাণসঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।