ক্রীড়া প্রতিবেদক
বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনের দুই মহাতারকা—টেনিসের নোভাক জকোভিচ ও ক্রিকেটের বিরাট কোহলি। নিজ নিজ ক্ষেত্রে কিংবদন্তি হলেও এই দুই অ্যাথলেটের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের বিষয়টি সমসাময়িক ক্রীড়া বিশ্বে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সার্বিয়ান টেনিস তারকা জকোভিচ জানিয়েছেন, আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলির কারণেই তিনি মূলত এই খেলার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
জকোভিচ জানান, সার্বিয়ায় ক্রিকেট একটি অপ্রচলিত খেলা হওয়ায় দীর্ঘ সময় এই খেলাটি নিয়ে তার কোনো ধারণা বা আগ্রহ ছিল না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোহলির সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকেই তিনি ক্রিকেটের খোঁজখবর রাখতে শুরু করেন। বর্তমানে এই দুই খেলোয়াড় নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং একে অপরের ক্যারিয়ারের অর্জন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দন বিনিময় করেন। লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে আলাপকালে জকোভিচ কোহলির প্রতি তার গভীর সম্মানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ক্রিকেটের প্রতি তার এই নব্য আগ্রহের পেছনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে জকোভিচ বলেন, “বিরাট কোহলি আমার একজন ভালো বন্ধু। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে এবং খেলোয়াড় হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। সত্যি বলতে, তার কারণেই আমি ক্রিকেট দেখা শুরু করেছি। আগে আমি এই খেলাটি অনুসরণ করতাম না, কিন্তু কোহলির মাধ্যমে আমি এই খেলাটির প্রতি বিশেষ কৌতূহল অনুভব করি।” তাদের মধ্যকার সম্পর্কটি কেবল পেশাদারিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সুদৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে রূপ নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জকোভিচ আরও জানান, ভবিষ্যতে ভারত সফর করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। সেই সফরে কোহলির সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা পোষণ করে তিনি বলেন, “যখনই আমি ভারত সফরে যাব, আশা করছি কোহলির সঙ্গে দেখা হবে। আমরা হয়তো একসাথে টেনিস এবং ক্রিকেট খেলে কিছুটা সময় কাটাতে পারব। আমাদের এই যৌথ কার্যক্রম ক্রীড়া জগতে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করবে।” ইতিপূর্বে কোহলিকে বেশ কয়েকবার জকোভিচের টেনিস ম্যাচ উপভোগ করতে গ্যালারিতে দেখা গেলেও, ব্যস্ত সূচির কারণে জকোভিচ এখনো কোহলির খেলা মাঠে বসে দেখার সুযোগ পাননি।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জকোভিচ ও কোহলির এই আন্তঃক্রীড়া বন্ধুত্ব বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটের প্রসারে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে যেখানে ক্রিকেট এখনো মূলধারার খেলা হয়ে ওঠেনি, সেখানে জকোভিচের মতো বিশ্বখ্যাত অ্যাথলেটের ক্রিকেট নিয়ে এমন ইতিবাচক মন্তব্য সাধারণ দর্শকদের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি করবে। এটি মূলত ক্রীড়া কূটনীতির একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ফুটবল বা টেনিসের মতো বৈশ্বিক খেলার পাশাপাশি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটকে অনেকটা ধর্মের মতো বিবেচনা করা হলেও ইউরোপীয় দেশগুলোতে এর আবেদন সীমিত। জকোভিচের এই মন্তব্য কেবল কোহলির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই প্রমাণ করে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান আবেদনকেও প্রতিফলিত করে। এই দুই কিংবদন্তির সম্ভাব্য যৌথ কোনো প্রচারণা বা সৌজন্য ম্যাচ ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক মাইলফলক তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে জকোভিচ ও কোহলি উভয়েই নিজ নিজ ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছেন এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের কাছে তারা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে পরিচিত।