1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে বছরব্যাপী নানা আয়োজন সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন খসড়া পর্যালোচনায় ৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন সবাই মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের আবহমান কালের মূল মূল্যবোধ: প্রধানমন্ত্রী দেশে জুন মাসে ৩৩৩ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু, আসামি ৫ চট্টগ্রামে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ, এক মাসেই আক্রান্ত চারগুণ ইউরোপের ৬ দেশে রেনাটার থাইরয়েড ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: ইয়াও ওয়েন

কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব: ৫ সপ্তাহে আক্রান্ত ৬৫১, মৃত্যু ৮

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪১ বার দেখা হয়েছে

স্বাস্থ্য ডেস্ক

কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলাটিতে মোট সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫১ জনে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন করে ভর্তি হওয়া ২৮ জন রোগীর মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন এবং উপজেলা পর্যায়ের কুমারখালীতে ১ জন ও দৌলতপুরে ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত পাঁচ সপ্তাহে আক্রান্তদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৩ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সন্দেহভাজন আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

চিকিৎসা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৬৫১ জনের মধ্যে ৫৫৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২২ জন। বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ৯৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হঠাৎ করে কুষ্টিয়া অঞ্চলে হামের এই তীব্র প্রকোপের পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। টিকাদানে অনীহা, পুষ্টিহীনতা কিংবা সাম্প্রতিক আবহাওয়ার পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে অনেক পরিবার শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে অবহেলা করায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একজনের থেকে অন্যজনে দ্রুত স্থানান্তরিত হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী শুরু হওয়া বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন কুষ্টিয়াতেও জোরদার করা হয়েছে। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত। স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৯২৬ জন শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। নির্ধারিত বয়সের কোনো শিশু যেন এই জীবন রক্ষাকারী টিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য জেলাজুড়ে অস্থায়ী ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ, চোখ লাল হওয়া কিংবা সর্দি-কাশির মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি করা যাবে না। অতি দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সম্মিলিতভাবে এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত প্রতিষেধক মজুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026