ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যাটার এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের কিংবদন্তি ক্রিস গেইল এবার নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন। মাঠের লড়াইয়ে বোলারদের শাসন করার পর এবার তিনি নাম লিখিয়েছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। আসন্ন ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে (ইটিপিএল) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোভিত্তিক একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের সহ-মালিকানা গ্রহণ করেছেন এই ক্যারিবীয় তারকা। ভারতের মুগাফি গ্রুপের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে দলটির মালিকানা কিনেছেন তিনি, যার নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গ্লাসগো মুগাফিয়ান্স’।
ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগ মূলত আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আসরটি আগামী ২৬ আগস্ট শুরু হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। ইউরোপের উদীয়মান ক্রিকেট বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। গেইলের মতো একজন বিশ্বখ্যাত তারকার সম্পৃক্ততা লিগটির গুরুত্ব ও বাণিজ্যিক আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিকভাবে গ্লাসগোর এই দলটির মালিকানা নিয়ে আলোচনা ছিল ভারতের বর্তমান জাতীয় দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে। তবে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে তারা গ্লাসগো থেকে সরে এসে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনভিত্তিক একটি দলের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সুযোগে ক্রিস গেইল মুগাফি গ্রুপের সঙ্গে মিলে গ্লাসগো ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন।
নিজের নতুন এই ভূমিকা সম্পর্কে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ৪৬ বছর বয়সী গেইল জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক হওয়া তার ক্যারিয়ারের একটি রোমাঞ্চকর অধ্যায়। তিনি ইউরোপকে ক্রিকেটের জন্য একটি ‘সুপ্ত সম্ভাবনা’ বা “শেষ সীমান্ত” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, এই ধরনের পেশাদার লিগ স্থানীয় প্রতিভা খুঁজে বের করতে এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের পরিচিতি তৈরিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। গেইলের উপস্থিতি কেবল মাঠের কৌশল নির্ধারণে নয়, বরং তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা হিসেবেও কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় এই টুর্নামেন্টে মোট ছয়টি শহরের প্রতিনিধিত্বকারী দল অংশ নেবে। শহরগুলো হলো— নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম ও রটারডাম, আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট ও ডাবলিন এবং স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ও এডিনবরো। পূর্ণাঙ্গ আইসিসি সদস্য দেশ না হয়েও ইউরোপের এই দেশগুলোতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড বড় বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে শক্তিশালী দলগুলোকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
ক্রিস গেইলের বর্ণাঢ্য ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৯৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দাপট দেখিয়েছেন। এই সময়ে তিনি ১০৩টি টেস্ট, ৩০১টি ওয়ানডে এবং ৭৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে তাকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট। আইপিএল, বিপিএল, সিপিএলসহ বিশ্বের প্রায় সব বড় আসরেই তিনি রানের পাহাড় গড়েছেন এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের দখলে রেখেছেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, গেইলের মতো একজন আইকন ক্রিকেটারের মালিকানায় আসা ইউরোপীয় ক্রিকেটের জন্য বড় একটি মাইলফলক। এটি কেবল খেলার মান বাড়াবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল ক্রিকেট বাজারকেও ইউরোপের দিকে আকৃষ্ট করবে। গ্লাসগো মুগাফিয়ান্সের মাধ্যমে গেইল নতুন কোনো চমক দেখান কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। আগস্টের শেষ সপ্তাহে পর্দা উঠতে যাওয়া এই লিগটি যদি সফলভাবে আয়োজিত হয়, তবে তা বৈশ্বিক ক্রিকেটের মানচিত্রে নতুন এক শক্তির উত্থান ঘটাবে।