রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মেট্রো রেলের বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন আটকে পড়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, উচ্চ ভোল্টেজের ওভারহেড ক্যাটেনারি লাইনে বেলুনটি আটকে পড়ায় তা নিরাপদভাবে অপসারণে সময় লাগছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে। এ সময় মেট্রোরেল পুলিশের (এমআরটি পুলিশ) নজরে আসে যে কারওয়ান বাজার অংশে ট্রেন চলাচলের জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে একটি গ্যাস বেলুন আটকে আছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ টিমকে জানানো হলে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
ঢাকা মেট্রোরেলের এই লাইনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত উচ্চ ভোল্টেজসম্পন্ন হওয়ায় যেকোনো বহিরাগত বস্তু, বিশেষ করে ধাতব বা পরিবাহী উপাদানযুক্ত বেলুন বা তার জাতীয় বস্তু আটকে গেলে তা অপসারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুপুরের ব্যস্ত সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক ভোগান্তি দেখা দেয়। অনেক যাত্রী স্টেশনে এসে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার তথ্য জানতে পারেন এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার দিকে যেতে বাধ্য হন। তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কাজ চলছে এবং নিরাপদভাবে বেলুনটি অপসারণের পরই পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করা হবে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বেলুনটি আশপাশের কোনো এলাকা থেকে উড়ে এসে মেট্রো লাইনের তারের সঙ্গে আটকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর এলাকায় খোলা জায়গায় ছেড়ে দেওয়া গ্যাস বেলুন বাতাসে ভেসে গিয়ে বৈদ্যুতিক লাইনের মতো উঁচু অবকাঠামোতে আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে, যা জনপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
ঢাকা মেট্রোরেলের পরিচালনা ব্যবস্থায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু লাইনের ওপর পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে নিরাপত্তা যাচাই করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। উচ্চ ভোল্টেজের কারণে সামান্য অবহেলাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় অপসারণ কার্যক্রমে বিদ্যুৎ লাইন সংক্রান্ত বিশেষ প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে কীভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে বেলুনটি অপসারণ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, কাজটি সম্পন্ন করতে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় মেট্রোরেল একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এ ধরনের সাময়িক বিঘ্ন সরাসরি যাত্রী চলাচলে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রীদের জন্য দুপুরের এই সময়টিতে চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে এবং বৈদ্যুতিক লাইনে কোনো ঝুঁকি না থাকলে পুনরায় স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল শুরু করা হবে। আপাতত সংশ্লিষ্ট টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান করে নিরাপত্তা ও অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করছে।