1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিগগিরই বিশেষ অভিযান কৃষি উন্নয়নে কৃষক কার্ড কর্মসূচি শুরু, পাঁচ বছরে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন পড়ায় কারওয়ান বাজার এলাকায় চলাচল সাময়িক বন্ধ, ১৫ মিনিট পর পুনরায় স্বাভাবিক গণভোটের অবস্থান নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য আখতার হোসেনের পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রার আগে সংস্কৃতি ও ধর্ম নিয়ে জামায়াত এমপির বক্তব্য মেট্রো রেলের বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন আটকে কারওয়ান বাজার অংশে চলাচল সাময়িক বন্ধ কানাডার ফেডারেল উপনির্বাচনে ডলি বেগমের জয়, লিবারেল পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত যাত্রাবাড়ীতে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে এক কলেজছাত্রী নিহত, আহত তিনজন টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম ও অবকাঠামো পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিগগিরই বিশেষ অভিযান

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে খুব শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার বর্তমানে একটি সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে, যা মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় গবেষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মানবপাচার রোধেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হবে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকারি কৃষি সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কার্ড বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার মাদকবিরোধী অবস্থানে অত্যন্ত কঠোর এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলমান থাকলেও নতুন করে আরও সমন্বিত ও বিশেষায়িত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে মাদক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

কক্সবাজার জেলা এবং এর সীমান্তবর্তী টেকনাফ ও উখিয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের একটি সংবেদনশীল রুট হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমান্ত সংলগ্নতার কারণে এসব এলাকায় বিভিন্ন সময় মাদক চোরাচালানের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। সরকার বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করলেও এ চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। নতুন ঘোষিত বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার এখন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ছে বলে সরকার লক্ষ্য করছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো গবেষণা করছে এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ জুয়ার বিস্তার রোধ করা যায়।

মানবপাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কিছু অঞ্চল, বিশেষ করে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সমুদ্র ও স্থলপথ ব্যবহার করে মানবপাচারের বিভিন্ন চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে সরকারের নজরে এসেছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব পয়েন্টে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে এবং সংগঠিতভাবে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে পাচার চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কেবল অভিযান নির্ভর না হয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে আসন্ন বিশেষ অভিযান এবং নতুন নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাদক নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ এবং মানবপাচার দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026