চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের চলমান কার্যক্রম, অবকাঠামো ও সামগ্রিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি গাড়িযোগে টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকায় পৌঁছে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন। পরিদর্শনকালে তিনি বন্দরের জেটিঘাট, গুদাম, প্রশাসনিক ভবন এবং নাফ নদী সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্দরে পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসন ও বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে তিনি সরাসরি জেটিঘাট এলাকায় যান এবং সেখানে অবকাঠামোগত অবস্থা, নৌপথ ব্যবস্থাপনা ও পণ্য ওঠানামার সুবিধাদি পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে বন্দরের বিভিন্ন গুদাম, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক ভবন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের একটি পর্যায়ে মন্ত্রী বন্দর ভবনের ওপর থেকে নাফ নদীর জলসীমা ও সীমান্তবর্তী এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন। সীমান্ত সংলগ্ন এই নদীপথকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের টেকনাফ স্থলবন্দর এবং মিয়ানমারের সীমান্ত বাণিজ্য কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্থলবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড টেকনাফের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, পরিদর্শনকালে মন্ত্রীকে বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয়। তিনি বলেন, মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে স্থলবন্দরের কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট সময় থেকে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বন্দর সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিদর্শনের সময় বন্দর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা, সংরক্ষণ সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পুনরায় সচল করার সম্ভাব্য দিকগুলো নিয়েও আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সমন্বয়ের বিষয়ে মতামত দেন।
পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কক্সবাজারের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা যৌথভাবে বন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার সম্ভাব্য দিকগুলো পর্যালোচনা করেন।
টেকনাফ স্থলবন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘদিন ধরে এই বন্দরের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট ও সীমান্ত পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট খাতের ওপর প্রভাব পড়ে বলে জানা যায়।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলে সীমান্ত নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নাফ নদীভিত্তিক সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন হবে বলে তারা মনে করেন।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বন্দরের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বলে জানা গেছে।