বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজশাহীসহ দেশের ১১টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রবিবার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে কর্মরত উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শহিদুল ইসলামকে রাজশাহী জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লুৎফুন নাহারকে চুয়াডাঙ্গা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব হরে জান্নাতকে খুলনা, অর্থ বিভাগের উপসচিব মর্জিনা আক্তারকে মাদারীপুর এবং সরকারি প্রিন্টিং প্রেসের উপপরিচালক (উপসচিব) মো. আবু সাঈদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব আহেমদ জিয়াউর রহমানকে চাঁদপুর, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব জি.এম. সরফরাজকে হবিগঞ্জ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইসরাত জাহান কেয়াকে নরসিংদী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শিল্পী রানী রায়কে মেহেরপুর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপসচিব (সচিব) মুহ. রাশেদুল হক প্রধানকে লালমনিরহাট এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) মো. সানিউল ফেরদৌসকে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে জেলা প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ভূমি প্রশাসন তদারকি, উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে এ ধরনের পদায়ন স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ নিয়োগ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলাম। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শিগগিরই নিজ নিজ জেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনিক প্রয়োজন ও দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সরকার নিয়মিতভাবে জেলা প্রশাসক পদে রদবদল করে থাকে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সাম্প্রতিক এই পদায়নও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।