আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমানোর উদ্দেশ্যে ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তবে এটি এখনও বাস্তব অগ্রগতি হিসেবে কার্যকর হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর শর্ত ও দাবিকে কেন্দ্র করে বৈঠক এবং আলোচনার ক্ষেত্রে নানা মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের সঙ্গে এক নৈশভোজে বলেন, ইরান শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী হলেও প্রকাশ্যে এটি স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি আলোচকরা আশঙ্কা করছেন, নিজেদের পক্ষের লোকজন তাদের ক্ষতি করতে পারে। ট্রাম্প বলেন, “তারা আলোচনা করছে এবং একটি চুক্তি করতে আগ্রহী, কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে পারছে না। তারা ভয় পাচ্ছে, তাদের নিজেদের লোকেরাই বা আমাদের পক্ষের মানুষ তাদের হত্যা করতে পারে।”
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেছেন, “আমাদের আলোচনার কোনো ইচ্ছা নেই।” এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং এটি ইরানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তেহরান এখনও হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের সমালোচনা করে দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটরা সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্জিত সাফল্য থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউসের পূর্ববর্তী বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ইরান যদি পরাজয় স্বীকার না করে, তবে ট্রাম্প পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে প্রস্তুত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫-দফা পরিকল্পনার প্রতি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। আরাগচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সমতুল্য নয়। তিনি আরও জানান, বার্তায় কিছু ধারণা তুলে ধরা হয়েছে যা শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান ঘোষণা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অপসারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য অর্থায়ন স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে সামরিক আঘাত বাড়ানোর প্রস্তুতি রয়েছে। প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “যদি তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে তা না বোঝে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।”
একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান প্রস্তাবিত শর্তাবলিতে রাজি হবে কি না তা নিয়ে ইসরায়েল সন্দিহান। ইসরায়েল চায় যে, যেকোনো চুক্তিতে আগাম হামলার বিকল্প সংরক্ষিত থাকবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের অবসান দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য সমঝোতার উপর নির্ভর করবে। তবে ইরানের অনীহা এবং শর্ত-প্রণালীর জটিলতা যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়াকে এখনও অসম্পূর্ণ রেখেছে।
সোর্সঃআলজাজিরা।