রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন উড়ে এসে আটকে পড়ার ঘটনায় মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর বেলুন অপসারণ করে পুনরায় মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
ঘটনাটি প্রথম জানা যায় বেলা ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে, যখন মেট্রোরেলের উচ্চ ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন আটকে পড়ার কারণে ওই অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখে।
পরে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে বেলুনটি অপসারণ করা হয়। অপসারণ সম্পন্ন হওয়ার পর বেলা ১টা ০৫ মিনিটে কারওয়ান বাজার স্টেশন থেকে পুনরায় মেট্রোরেল চলাচল শুরু হয়। এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়।
এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমের ওয়ারলেস অপারেটর রাতুল জানান, বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে তাদের কাছে খবর আসে যে একটি গ্যাস বেলুন মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক লাইনে আটকে পড়েছে, যার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিম ও নিরাপত্তা ইউনিট যৌথভাবে কাজ করে বেলুনটি অপসারণ করে। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করা হয়।
ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন হিসেবে মেট্রোরেল ব্যবস্থার ভূমিকা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচলকারী মেট্রোরেল নিয়মিতভাবে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে থাকে। ফলে যেকোনো ধরনের সাময়িক বিঘ্ন নগর পরিবহনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর পরিচালিত মেট্রোরেল ব্যবস্থায় যেকোনো বাহ্যিক বস্তু, বিশেষ করে ধাতব বা পরিবাহী উপাদানযুক্ত বস্তু, গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গ্যাস বেলুন সাধারণত হালকা হলেও এটি যদি বিদ্যুৎ পরিবাহী তারের সংস্পর্শে আসে, তাহলে স্বল্প সময়ের জন্যও বৈদ্যুতিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
মেট্রোরেল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রায়ই যাত্রী ও সাধারণ জনগণকে বৈদ্যুতিক লাইন ও স্টেশন এলাকার আশপাশে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়। বিশেষ করে উড়ন্ত বেলুন, ঘুড়ি বা অন্য যেকোনো বস্তু যাতে লাইনের সংস্পর্শে না আসে সে বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে সাময়িক এই বিঘ্নের কারণে নির্ধারিত সময়সূচিতে আংশিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দল কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ধরনের ঘটনা পুনরায় যাতে না ঘটে, সে জন্য ভবিষ্যতে আরও সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।