ক্রীড়া প্রতিবেদক
আইপিএলের ১৯তম আসরে নতুন দলের হয়ে প্রথম ম্যাচে ঝড়ের সূচনা করেছেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি। ১ এপ্রিল লখনৌ একানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক লখনৌ সুপার জায়ান্টস ও দিল্লি ক্যাপিটালস মুখোমুখি হয়। লখনৌর হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই শামি দিল্লির তারকা ব্যাটার লোকেশ রাহুলকে প্রথম বলেই আউট করে দলকে শক্তিশালী সূচনা দিয়েছেন।
শামি, যিনি দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক বছরের বেশি সময় খেলেননি, আইপিএলের এই আসরে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের ভরসার কেন্দ্রে ছিলেন। ম্যাচের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই রাহুলকে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচে ধরার মাধ্যমে ফেরাতে শামি নতুন দলের হয়ে এক নজরকাড়া রেকর্ড গড়েছেন। এটি তার আইপিএল ক্যারিয়ারে পঞ্চমবার ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার ঘটনা, যা কোনো অন্য বোলারের নেই।
আইপিএলে দ্বিতীয় সর্বাধিক তিনবার প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে সাতজন বোলারের, যার মধ্যে আছেন প্রভিন কুমার, উমেশ যাদব, ট্রেন্ট বোল্ট, লাসিথ মালিঙ্গা, ভুবনেশ্বর কুমার, অশোক দিন্দা ও প্যাট কামিন্স। তবে শামি এই রেকর্ডকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন, পঞ্চমবার প্রথম বলেই উইকেট নিলে নিজের একক দখল তৈরি করেছেন।
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে শামি রাহুলের উইকেট ছাড়া আর কোনো ব্রেকথ্রু দিতে পারেননি। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তিনি ৪ ওভারে ১ উইকেটের বিনিময়ে ২৮ রান দেন। তার নিয়ন্ত্রণ ও অভিজ্ঞতা দলের প্রথম বলেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিশ্চিত করে ম্যাচে শক্তিশালী সূচনা এনে দেয়।
লখনৌ সুপার জায়ান্টস ১৪২ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করার সময় শুরুতে কিছুটা চাপে ছিল। চার উইকেট হারানোর পর দল জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলতে ব্যর্থ হতে বসেছিল। তবে সমীর রিজভি ও ট্রিস্টান স্টাবস দলের ব্যাটিংয়ে স্থিতিশীলতা আনেন। সমীর রিজভি অপরাজিত অর্ধশতরান হাঁকান এবং স্টাবসের সঙ্গে ১১৯ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জয়ের দূরত্বে পৌঁছে দেন।
ম্যাচের শুরুতে রাহুল আউট হওয়ার পর নীতীশ রানা, পাথুম নিসাঙ্কা ও অক্ষর পটেলও অল্প রানেই ফিরে যান। ২৬ রানে চার উইকেট হারানোর পর লখনৌ ম্যাচে কিছুটা সুবিধা হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে রিজভি ও স্টাবসের একযোগে ব্যাটিং দলের জয়ের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেয়।
শেষ পর্যন্ত লখনৌ সুপার জায়ান্টস নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে জয় অর্জন করে। শামির প্রথম বলেই উইকেট নেওয়া এই রেকর্ড এবং দলের সুষ্ঠু প্রয়াস নতুন মরশুমে লখনৌর জন্য আশা ও ভরসার প্রতীক হিসেবে দেখা যায়।