আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা শুধুমাত্র হামলা বন্ধ রাখার প্রস্তাবে সম্মতি জানাবে না। তিনি বলেন, ইরান সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে স্থায়ী শান্তি ও যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ অবসান চায়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, “আমরা কোনো যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের লক্ষ্য সব ফ্রন্টে—লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক এবং ইরানসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে—যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।” তিনি এসময় জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, যে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা শুধু অস্থায়ী সময়ের জন্য হামলা বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তা অবশ্যই ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন না চালানোর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা বহন করতে হবে।
গত বছর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘিত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে ইরান এমন অস্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতি আপত্তি জানিয়েছে। আরাগচি বলেছেন, ইরান কোনো শর্তহীন আত্মসমর্পণ করবে না এবং কোনো সাময়িক সমাধানের পিছনে সময়ক্ষেপণ করবেনা। তার মতে, স্থায়ী সমাধান ছাড়া কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের স্বার্থের সঙ্গে ইরানের অবস্থান যুক্ত থাকায়, আরাগচির বক্তব্য তেহরানের দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক নীতি ও অঞ্চলে স্থিতিশীলতার লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেন, লেবানন ও সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জঙ্গি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সমাধান ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত ও অভিজ্ঞতার আলোকে দেশটি কোনো অস্থায়ী সমাধান বা ক্ষণিকের যুদ্ধবিরতি গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছে।
বিশ্বমঞ্চে তেহরানের এ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকের মতো দেশগুলিতে যে কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি পুনরায় সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে, সেজন্য ইরানের নীতি অঞ্চলটিতে স্থায়ী সমাধানের গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করছে।
আরাগচির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক বা অস্থায়ী শান্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কার্যকর কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ স্থায়ী সমাধান চায়।