অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের সোনার বাজারে আবারও মূল্য বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দামের সঙ্গে সাথে অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও সংশোধন করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।
এটি আগের সমন্বয়ের ঠিক পরের দিনের ঘটনা। ৩১ মার্চ সকালে বাজুস দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করেছিল। সেই অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা ছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সোনার মূল্যের ওঠানামা, বৈশ্বিক বাজারে ডলার মূল্যায়ন, এবং স্থানীয় স্বর্ণের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের বাজারে দাম পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে। বাজুসের নিয়মিত সমন্বয় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করে, যাতে বাজারে সোনার ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
দেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি সাধারণভাবে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। উচ্চমূল্য নতুন ক্রেতাদের জন্য ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে আনতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি লাভজনক বাজারে প্রবেশের সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। বাজুসের নিয়মিত দাম সমন্বয় এই খাতে ব্যবসার স্থিতিশীলতা এবং বাজারে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই ধারা অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম যদি অব্যাহতভাবে ওঠানামা করে, তবে দেশের বাজারেও প্রতিদিনের সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। এজন্য ব্যবসায়ীরা নিয়মিত সরকারি ও বেসরকারি সূচক পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।