অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশে বর্তমানে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। বৃহস্পতিবার জ্বালানি বিভাগ থেকে জানা যায়, এই মজুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের তেলের সঠিক পরিমাণও নির্ধারিত করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ডিজেল মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন, কেরোসিন ৯ হাজার ৩৭৮ টন, অকটেন ৯ হাজার ২১ টন, পেট্রল ১২ হাজার ১৯৪ টন। এছাড়া ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে ৫৮ হাজার ৭৩৬ টন, জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৮৭৬ টন এবং মেরিন ফুয়েলের মজুদ ১ হাজার ১৫৩ টন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পর্যায়ের মজুদ দেশের দৈনন্দিন জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের পর্যাপ্ত মজুদ শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের কার্যক্রমকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুদ শহরাঞ্চলের যানবাহন ও কৃষি যন্ত্রপাতি চালাতে সহায়তা করবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত তেলের মজুদ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং চাহিদা অনুযায়ী তা বজায় রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামার প্রভাব দেশীয় বাজারে সীমিত রাখতে এ ধরনের মজুদ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
দেশে তেলের মজুদের মধ্যে ফার্নেস অয়েলের অংশ বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বড় পরিসরে শিল্প, গৃহস্থালি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। জেট ফুয়েল মূলত বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং মেরিন ফুয়েল নৌপথে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয়।
জ্বালানি বিভাগের এই তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, দেশীয় তেলের সরবরাহ সুনিশ্চিত রাখতে সরকার যথেষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পর্যায়ের মজুদ আগামী কয়েক মাসের জন্য নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও রপ্তানির ওপর নজর রাখা হচ্ছে যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্বাভাবিক রাখা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণকে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের অস্থিরতার সম্মুখীন হতে হবে না।