অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঘোষণা করেছে, দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এবং সরকারের চলমান উদ্যোগে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এ বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, ঢাকাসহ দেশের সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ রাখার মাধ্যমে সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় কার্যক্রমকে সমর্থন করবে।
সংগঠনটি আরও জানায়, এই নিয়মের বাইরে থাকবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানকারী দোকান এবং কাঁচাবাজার। অর্থাৎ এই ধরনের প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষকে মৌলিক সেবা সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কার্যক্রমে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এই ধরনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে দেশজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয় কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সহায়তা মিলতে পারে।
দেশের বড় বড় শহরগুলোতে রাতের বেলায় দোকান ও শপিংমলের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎ চাহিদা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগরে সন্ধ্যার পর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।
এছাড়া, ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে, নিয়মটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় এবং পর্যবেক্ষণ থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সময়সূচি মেনে চলবে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।
দেশব্যাপী এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষকে বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে আগেভাগে কেনাকাটা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা আগের দিনের তুলনায় বিকেলের সময় ক্রেতাদের আগমন বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুতি নেবে।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শপিংমল ও দোকানগুলোর রাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত হলেও সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি কার্যকরভাবে সমর্থিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার এবং ব্যবসায়ী সমিতি উভয় পক্ষই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।