অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ৪৮ দল চূড়ান্ত হওয়ার পরই শুরু হয়েছে টিকিটের সর্বশেষ বিক্রয় উইন্ডো। ফিফা জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচের শীর্ষ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম বেড়ে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। এই বিক্রয় উইন্ডোতে ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৪০টির টিকিটের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে।
ফিফার পূর্ববর্তী টিকিট বিক্রয় উইন্ডোতে ডিসেম্বরে ফাইনাল ম্যাচের শীর্ষ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার। এবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচের ‘ক্যাটাগরি ২’ টিকিটের দাম ৫ হাজার ৫৭৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার ৩৮০ ডলার করা হয়েছে। ‘ক্যাটাগরি ৩’ টিকিটের দামও ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
নকআউট পর্বের বেশিরভাগ ম্যাচের টিকিটের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুইটি সেমি-ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম ৩ হাজার ২৯৫ ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৭১০ ডলার হয়েছে। এছাড়া, ১১ জুন অনুষ্ঠিত মেক্সিকো বনাম সৌদি আরবের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের দাম ডিসেম্বরের ২ হাজার ৩৫৫ ডলার থেকে ২ হাজার ৯৮৫ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। ১২ জুন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার প্রথম ম্যাচের টিকিটের দামও বাড়ানো হয়েছে।
টিকিট ছাড়ার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকায় ক্রেতাদের ফিফার ওয়েবসাইটে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান করতে হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সঠিক লিংকে প্রবেশ করতে না পারার অভিযোগও উঠেছে, তবে পরে ফিফা জানিয়েছে যে ত্রুটি সমাধান করা হয়েছে।
ফিফা জানিয়েছে, ১০৪টি ম্যাচের সব টিকিট একসাথে ছাড়া হয়নি এবং টুর্নামেন্ট চলাকালীন পর্যায়ক্রমে আরও টিকিট ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো প্রথমবারের মতো ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এর আওতায় টিকিটের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দাম বাড়ানো বা কমানো হবে। নতুন এই পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু থেকেই ফিফা সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উচ্চমূল্যের টিকিট বিক্রির ফলে বিশ্বকাপে সাধারণ ভক্তদের সরাসরি অংশগ্রহণে প্রভাব পড়তে পারে। তবে ফিফা আশা করছে, ডায়নামিক প্রাইসিং ব্যবহার করে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা যাবে।