ক্রীড়া ডেস্ক
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে শুক্রবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। উভয় দল নিজেদের সেমি-ফাইনাল জয় নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ বুধবার বিকেলে মালেতে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমি-ফাইনাল ম্যাচে নেপালকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে। ভারতের পক্ষে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ভুটানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত হয়। ফাইনালের আগে গ্রুপ পর্বেও দুটি দল মুখোমুখি হয়েছিল। ওই ম্যাচ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ১-১ গোলে ড্র হয়ে শেষ হয়।
বাংলাদেশ ও ভারত এবার চতুর্থবারের মতো বয়সভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালের অনূর্ধ্ব-১৮, ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-২০ এবং ২০২৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ।
বয়সভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এখন পর্যন্ত সাতবার আয়োজন হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় ভারত চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং নেপাল দুইবার। ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের জন্য এটি প্রায় তিন বছর পর অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের জন্য এবার তাদের ভারতের বিরুদ্ধে জয় অর্জন করতে হবে। দুই দেশের মধ্যে ফাইনাল ম্যাচটি উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ উভয় দলই শক্তিশালী ও গতিসম্পন্ন খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠে নামছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলগুলোর বর্তমান ফর্ম এবং সেমি-ফাইনাল পারফরম্যান্স ফাইনালের ফলাফলের পূর্বাভাস দিতে পারে। বাংলাদেশ সেমি-ফাইনালে প্রতিরোধক নেপালকে মাত্র এক গোলের ব্যবধানে পরাজিত করলেও ভারতের বড় জয় ভুটানের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণাত্মক শক্তি প্রমাণ করে।
ফাইনালের ফলাফল শুধুমাত্র উভয় দেশের জন্যই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার যুব ফুটবল প্রতিযোগিতার মান ও ভবিষ্যত প্রতিভা উদ্ভাবনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। জয়ী দল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতবে এবং ওই দেশের যুব ফুটবলের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের কোচ ও খেলোয়াড়রা জানান, তাদের লক্ষ্য সতর্ক পরিকল্পনা ও সমন্বিত কৌশলের মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। ভারতের পক্ষ থেকেও সেমি-ফাইনালে প্রমাণিত আক্রমণাত্মক খেলা এবং ডিফেন্সিভ সক্ষমতা ফাইনালে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচটি স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় মালেতে অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার যুব ফুটবলের বর্তমান ধারার পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রতিভার প্রতিফলন দেখা যাবে।