আইন আদালত ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে পাঠানো চিঠিকে আদালত অবমাননাকর বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ তথ্য জানিয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো চিঠি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনজীবী কিংসলি ন্যাপলি ই-মেইলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠান। এতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড রায় বাতিলের অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে যেভাবে বিচার চালানো হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ডের বিরুদ্ধে। চিঠিতে বিচার প্রক্রিয়াকে অন্যায় ও অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং ১৪ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে জবাব দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালীন তিনি উপস্থিত না থাকার কারণে তার পক্ষে আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়েছিল।
আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় পরিবর্তন বা বহাল রাখার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রয়েছে। তবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলছেন, বিদেশি আইনজীবীর পাঠানো চিঠি ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বা রায়ের বৈধতাকে প্রভাবিত করতে পারবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বিচার সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে বিদেশি আইনজীবীর চিঠি পাঠানো বেশ সীমিত প্রভাব রাখতে পারে। ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়া ও নিয়ম অনুযায়ী রায় কার্যকর করবে এবং আপিল প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করবে।
চিঠি প্রেরণ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত যে অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, চিঠিটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং আদালতের ক্ষমতা ও মর্যাদা অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হবে।
এ ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আইন অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এছাড়া, দেশের আদালত ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রায় কার্যকরীকরণ ও আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হবে।