সরকারি ডেস্ক
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য সরকার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করছে। মন্ত্রণালয়ের খসড়া তালিকার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এই তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, এই স্বেচ্ছাসেবকরা জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে।
মন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য মোট ৪৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রাথমিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভূমিকম্প সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে বাস্তবায়ন এবং শিক্ষাক্রমের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনার মধ্যে রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ মোকাবিলায় মৌলিক জ্ঞান অর্জন করবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এ পরিকল্পনা প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিক্রিয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, রাজধানীর উচ্চ জনসংখ্যা এবং সংবদ্ধ নগর পরিবেশকে ধ্যানায়ন করে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ, আশ্রয়কেন্দ্রের প্রস্তুতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প সচেতনতা এবং প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনা শিক্ষার মাধ্যমে শুধু নগর এলাকার নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনসাধারণও দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত থাকবে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।