জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশের ধর্মীয় আলোচক মিজানুর রহমান আজহারিকে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার (১ এপ্রিল) বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজহারি ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ শিরোনামের ধর্মীয় আলোচনার সিরিজের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরা শহরে সফর করছিলেন। সফরের মাঝপথে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ তার ভিসা বাতিল করে তাকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে তিনি এই প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এর আগে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে এবং বাংলাদেশে প্রকাশ্যে সমাবেশে ধর্মীয় আলোচনায় অংশগ্রহণে আজহারির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টির সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম জানিয়েছেন, আজহারির আগমন নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও গোষ্ঠী সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছিল। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজসহ বিভিন্ন সংগঠন সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।”
মিডিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক আলোচনায় আজহারি হিটলারের প্রশংসা এবং ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন। ওই বক্তৃতায় তিনি ইহুদিদের অমানবিক আখ্যায়িত করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। তিনি হিটলারকে ‘স্রষ্টা প্রদত্ত শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ ও ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া, আজহারি বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা, যেমন এইডস, ইহুদিদের দায় দেওয়ার দাবি করেন। বক্তৃতায় হিটলারের নিষ্ঠুরতার প্রশংসা করার বিষয়টিও ধরা পড়ে।
অস্ট্রেলিয়ায় আজহারির সফর সোমবার রাতে ব্রিসবেনে শুরু হয়েছিল। ৩ এপ্রিল মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল সিডনি এবং ৬ এপ্রিল ক্যানবেরায় তার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। ডুনিয়াম সিনেটে বলেন, “বিশ্বের আরও অনেক জায়গায় জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে এই বক্তার বিরুদ্ধে এবং তা প্রমাণিত হয়েছে।”
যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, হিন্দুবিদ্বেষ ছড়ানোর কারণে ২০২১ সালে আজহারির যুক্তরাজ্যে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল।
সংবাদে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশব্যাপী সম্প্রদায়গুলোর নিরাপত্তা এবং সামাজিক সহমর্মিতা বজায় রাখার লক্ষ্য রেখেছে।