বিনোদন ডেস্ক
বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা রেদওয়ান রনি পরিচালিত সিনেমা **‘দম’** দেশের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য একটি ভিজুয়াল ও মানবিক অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছে। সিনেমাটি প্রথম আলোর একটি ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে। এটি আফগানিস্তানে বাংলাদেশের একজন এনজিও কর্মীর অপহরণ, টিকে থাকা এবং মুক্তির কাহিনি তুলে ধরে।
সিনেমার প্রযোজনা প্রক্রিয়ায় রনি এবং তার টিম দীর্ঘ সময় ধরে পাণ্ডুলিপি ও চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করেছেন। শুটিং আফগানিস্তানের পরিবেশকে প্রতিফলিত করতে কাজাখস্তানে সম্পন্ন হয়েছে। সিনেমায় ব্যবহৃত বিস্তৃত মরুভূমি, পাহাড়, ঝরনা, এবং স্থানীয় পরিবেশ দর্শকের চোখে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বাস্তবতার এক অনন্য সংমিশ্রণ তুলে ধরেছে।
প্রধান চরিত্র আফরান নিশো অভিনীত নূরের মাধ্যমে দর্শকরা নৃশংস পরিস্থিতিতে মানবিক সহমর্মিতা ও সাহসিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। নূরের পরিচয়মূলক সংলাপ “আমি শাহজাহান ইসলাম নূর। বাংলাদেশি মুসলমান। মনে রাইখো।” চলচ্চিত্রের নান্দনিক ও আবেগীয় মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। পূজা চেরীর অভিনীত রানি চরিত্র এবং চঞ্চল চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ উপচরিত্রগুলি গল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সিনেমায় দুটি আফগান শিশুর সংলাপ ও একজন আফগান যুবকের নীরব কিন্তু উপস্থিতির প্রভাব দর্শকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে।
সিনেমার কাহিনিতে দমবন্ধের অনুভূতি থাকলেও এটি দর্শকের জন্য অস্বস্তিকর নয়। গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দর্শক শেষ পর্যন্ত কান্না, হাসি এবং সহানুভূতির অনুভূতি নিয়ে প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা লাভ করেন। চলচ্চিত্রের দৃশ্য বিন্যাস, সংলাপ এবং চরিত্রের চিত্রায়ন বাস্তবতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা দর্শককে গল্পের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত রাখে।
রেদওয়ান রনি ‘দম’ সিনেমার মাধ্যমে সিনেমাটোগ্রাফিতে বিশ্বমানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সিনেমার ভিজুয়াল এবং শুটিং কৌশল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এটি শুধু ফেস্টিভ্যাল বা বিকল্পধারার ছবি নয়; মূলধারার দর্শকদের জন্য নির্মিত এবং বিশ্বসিনেমার মান অনুযায়ী অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
সিনেমার মধ্যে রয়েছে একাধিক উপকাহিনী, যা মূল কাহিনিকে সমৃদ্ধ করেছে। চরিত্রের বিকাশ ও আবেগের গভীরতা দর্শকের মনকে গল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখে। আফরান নিশো এবং পূজা চেরীর চরিত্রের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিপদজনক পরিস্থিতিতে তাদের কৌশল ও সাহসিকতা গল্পের উত্তেজনা বজায় রাখে। সিনেমার খল চরিত্রও চিত্রনাট্যের মাধ্যমে যথাযথভাবে নির্মাণ হয়েছে, যা দর্শকের কৌতূহল ধরে রাখে।
শেষ দৃশ্যে নূর ও তার প্রধান শত্রু পাহাড়ের খাদ থেকে নিচের স্রোতস্বিনীতে পড়ে যায়, যা শুটিং প্রক্রিয়ার কৌশল এবং অভিনয়ের বাস্তবতা প্রদর্শন করে। দর্শক এই দৃশ্য দেখে দেশপ্রেম, মানবিক সহমর্মিতা এবং চলচ্চিত্রের নান্দনিকতা একসাথে অনুভব করেন।
**‘দম’** সিনেমা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বসিনেমার মানে পৌঁছে দিয়েছে এবং দেশের সিনেমার ভিজুয়াল ও ন্যারেটিভ সীমা সম্প্রসারণ করেছে। সিনেমাটি শুধু একটি গল্প বলার মাধ্যমে দর্শককে বিনোদন দেয়নি, বরং মানবিক মূল্যবোধ, সাহসিকতা এবং দেশপ্রেমের অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে।